
রাজশাহী প্রতিনিধি:
নিরাপদ মাছ উৎপাদনে মৎস্যচাষীদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
তিনি বলেন, নিরাপদ ফিড ও ঔষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে মানসম্মত মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জমির ক্ষতি না করে পতিত জমিতে পুকুর খননের মাধ্যমে মাছ উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, মৎস্য শিল্প বিদেশে রপ্তানী উপযোগী করার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও নীতিমালা গ্রহন করার সময় এসেছে। সরকার এ কাজে সর্বাত্তক সহযোগিতা করবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
শনিবার (২২ নভেম্বর) দিনব্যাপী রাজশাহী অঞ্চলের মৎস্য শিল্প রপ্তানীমূখী পণ্য হিসেবে সংযোগ স্থাপনের জন্য ফিশারীজ অনুষদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বাণিজ্যিক মৎস্য চাষী সমবায় সমিতির যৌথ আয়োজনে আন্তর্জাতিক মৎস্য সামিট ও মেলা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, রাজশাহীর চাষীরা বাংলাদেশের মৎস্য চাষে যুগান্তকারী পরিবর্তন করেছেন। বিদেশনির্ভর বড় আকারের রুই থেকে রাজশাহীর জীবন্ত রুইজাতীয় মাছ আজ দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়েছে। আজ সময় এসেছে বিদেশে রপ্তানী উপযোগী করার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, নীতিমালা গ্রহন করা। সরকার এ কাজে সর্বাত্তক সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ফিশারীজ অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান মন্ডল বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে একাডেমি ও ইন্ডাস্ট্রীর যৌথ উদ্যোগে এমন আয়োজন এবারই প্রথম। আমাদের বিশ্বাস এই উদ্যোগ দেশের রপ্তানী শিল্পে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে ।
মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাবি ফিশারিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মো: আখতার হোসেন।
টেকসই মৎস্য পালন ও রপ্তানির জন্য অংশীজনদের সংযোগ স্থাপন করতে রাজশাহীতে এ আয়োজন। সামিটে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড এবং আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্যোক্তা, গবেষক, শিক্ষক, মৎস্য চাষী, আমদানী ও রপ্তানীকারক, সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা উপস্থিত থেকে রাজশাহী অঞ্চলের মৎস্য চাষ ও এর রপ্তানী বাজার সংযোগ স্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করেন। সামিটের মেলায় সংশ্লিষ্ট ২৫ টি কোম্পানী (ফিড, একুয়া মেডিসিন, যন্ত্রপাতি) তাদের বিভিন্ন পন্য প্রদর্শন করে। এই সম্মেলন থেকে একটি সুপারিশমালা সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।