
কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজার লবণের দাম কম পাওয়া ও বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধের দাবিতে কক্সবাজারের মহেশখালীতে লবণ চাষি ও মালিকেরা সোমবার সকালে অভিনব এক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা প্রধান সড়কে লবণ ছিটিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন এবং লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সকাল ১১টার দিকে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে “মহেশখালী লবণ উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদ”-এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, কক্সবাজারের উত্তরাঞ্চলের প্রান্তিক লবণচাষিদের নীরব কান্না কেউ শুনছে না। ধারদেনা ও ঋণের টাকায় মাঠে লবণ উৎপাদন করেও তারা এখন চরম বেকায়দায়। কেউ জীবনের শেষ পুঁজি, কেউ বা স্ত্রীর গয়না বিক্রির টাকায় চাষ করেছেন— কিন্তু বাজারে লবণের দাম না থাকায় তারা দিশেহারা।
চাষিদের দাবি, বর্তমানে লবণ উৎপাদন বন্ধ থাকলেও যারা লবণ মজুদ রেখেছেন, তারাও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। যদি দ্রুত দাম না বাড়ে, তবে প্রান্তিক চাষিরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন এবং লবণ চাষে আগ্রহ হারাবেন।
চাষিদের উপস্থাপিত দাবির মধ্যে ছিল—
• লবণের ন্যায্য দাম নির্ধারণ,
• বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধ,
• দ্রুত লবণ বোর্ড গঠন, এবং
• বিসিকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাষি ও উৎপাদনকারীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।
মানববন্ধন শেষে শতাধিক চাষি প্রধান সড়কে লবণ ছিটিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।
চাষিদের হিসাবে, একজন লবণচাষির পক্ষে গড়ে তিন কানি (প্রায় ১.২০ একর) জমিতে চাষ করা সম্ভব। এতে ইজারা বাবদ খরচ হয় প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, পলিথিন বাবদ ২০ হাজার এবং শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ ২০ হাজার টাকা— সব মিলিয়ে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
গড়ে প্রতি কানিতে ৩০০ মণ লবণ উৎপাদন হলে তিন কানিতে মোট উৎপাদন হয় ৯০০ মণ। বর্তমানে বাজারে লবণের দাম ২০০ থেকে ২২০ টাকা হওয়ায় মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা— ফলে তিন কানিতে লোকসান হয় অন্তত ৫২ হাজার টাকা। যদি চাষির ছয় মাসের শ্রমের মূল্য ধরা হয় এক লাখ টাকা, তবে প্রকৃত লোকসান দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা।
চাষিরা অভিযোগ করেন, গত মৌসুমে লবণের দাম ছিল প্রতি মণ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। তখন লাভ হওয়ায় জমির দামও বেড়েছিল। কিন্তু এবছর দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে, অথচ ভোক্তা পর্যায়ে লবণের দাম কমেনি। “উৎপাদক পর্যায়ে দাম কমিয়ে দেওয়া হলো কেন, তার উত্তর কারও কাছে নেই,” বলেন এক ক্ষুব্ধ চাষি।