ইন্জিনিয়ার জাহিদ হাসান,
দেবিদ্ধার আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ–এর একটি বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। তিনি এক বক্তব্যে জানান, দেবিদ্ধার এলাকায় ৩৯ বক্স খেজুর এসেছে। আর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় উঠেছে নতুন প্রশ্ন—দেশের বাকি সংসদীয় আসনগুলোর খেজুর কোথায়?
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলছেন, যদি একটি আসনের জন্য খেজুর আসার তথ্য প্রকাশ্যে আসে, তাহলে অন্য আসনগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে তথ্য জানানো উচিত।
এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে মোট ৩০০টি সংসদীয় আসন রয়েছে। যদি দেবিদ্ধারের জন্য ৩৯ বক্স খেজুরের কথা বলা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—বাকি আসনগুলোর জন্য কী এসেছে? বিষয়টি জনগণের কাছে পরিষ্কার হওয়া দরকার।”
তার মতে, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ঘুরছে একটি প্রশ্ন—“যার যার আসনের খেজুর কোথায়?” তিনি বলেন, এই প্রশ্নের পেছনে মূল বিষয় হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
এদিকে আলোচনার মধ্যে শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত ওসমান হাদি–এর একটি পুরোনো বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি একসময় বলেছিলেন, “একজন এমপি হতে পারে, কিন্তু বাকি ২৯৯ জনের জান বের করে ফেলবো, দৌড়ের উপর রাখবো।” অনেকেই এ বক্তব্যকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীকী ভাষা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যেকোনো বক্তব্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে তৈরি হয় জনআলোচনা। দেবিদ্ধারের খেজুর প্রসঙ্গটিও এখন তেমনই একটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অনেক ব্যবহারকারী মত দিচ্ছেন, যদি কোনো অনুদান বা সহায়তা দেশের নামে আসে, তাহলে সেটি স্বচ্ছভাবে বণ্টন ও প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে জনগণের আস্থা বাড়বে এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্কও কমবে।
সব মিলিয়ে, একটি বক্তব্য থেকেই শুরু হওয়া খেজুর বিতর্ক এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বড় প্রশ্নে রূপ নিয়েছে—দেবিদ্ধারে যদি ৩৯ বক্স খেজুর আসে, তাহলে বাকি আসনগুলোর খেজুর কোথায়?